ঢাকাশুক্রবার , ২৮ জুলাই ২০২৩
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. করোনা ভাইরাস
  7. ক্রিকেট
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. টেনিস
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচনের মাঠ
  14. ফিচার
  15. ফুটবল

নদীর তীরে পাখির গ্রাম

admin
জুলাই ২৮, ২০২৩ ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গ্রামের নাম রামডাঙ্গা। গাছগাছালিতে ভরা একটি গ্রাম। গ্রামটির বাড়িতে বাড়িতে রয়েছে সুপারি, আম, জাম, কাঁঠালসহ হরেক প্রজাতির গাছ। গাছের ডালে ডালে পাখি আর পাখি। বাড়তি নজর কাড়ে বাবুই পাখির শিল্পনিপুণ বাসা।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার এই গ্রামের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভারত থেকে আসা বুড়িতিস্তা নদী। উজানে মুখ বন্ধ থাকায় বুড়িতিস্তাকে এখন নদী না বলে বিস্তীর্ণ ধানি জমির প্রান্তর বলাই ভালো। সেই নদী দেখতে গিয়ে এই পাখির গ্রামের খোঁজ পাওয়া গেল।

গ্রামের বাঁশবাগানজুড়ে বকের আবাস। তবে আধিপত্য শেষ পর্যন্ত বাবুই পাখিরই। বাবুই প্রকৃতির বয়নশিল্পী ও স্থপতি। খড়, তালপাতা, ঝাউ আর কাশবনের লতাপাতা দিয়ে গ্রামটির সুপারিগাছগুলো বাসা বেঁধে ভরিয়ে ফেলেছে। বাবুই পাখি সাধারণত উঁচু তাল, নারকেল আর সুপারিগাছেই বাসা বাঁধে।

স্থানীয় লোকজন বললেন, এই গ্রামে ৫০-৬০ বছর ধরেই তাঁরা সুপারিগাছে বাবুই পাখির বাসা বাঁধা দেখে আসছেন। পঞ্চাশোর্ধ কৃষক সহিদুল ইসলাম বলেন, শৈশব থেকেই এই গ্রামে বাবুই পাখির কাকলি শুনছেন। বাবুই কাকভোরে জেগে উঠে কলকাকলি শুরু করে। তাতে অনুপম পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

তবে কেবল বাবুই আর বকই এই গ্রামের বাসিন্দা নয়। চড়ুই, টিয়া, ঘুঘু, দোয়েল ও বালিহাঁসের দেখাও ঢের মিলল এখানে। তবে কয়েক বছর ধরে নাকি এরা সংখ্যায় কমে আসছে। গ্রামের প্রবীণ লোকেরা বললেন, ৭০-৮০ বছর আগে গ্রামে গাছগাছালি আর বাঁশঝাড় ছিল অনেক। মানুষও তখন এত বেশি ছিল না। গ্রামটা তখন অগণিত পাখির কলকাকলিতে মুখর ছিল।

শুধু রামডাঙ্গা নয়, এর পাশের সুন্দরখাতা গ্রামেও একইভাবে অসংখ্য পাখির দেখা পাওয়া গেল। সেই গ্রামের প্রতিমা রানীর উঠানের তিনটি সুপারিগাছে বাবুই পাখি বাসা বেঁধেছে। প্রতিমা বললেন, প্রতিবছর বাংলা সনের ফাল্গুন মাসে বাবুই পাখি সংসার বাঁধা শুরু করে। কার্তিক মাসে অন্যত্র চলে যায়। তাঁরা পরম মমতায় এই পাখিগুলোর দেখাশোনা করেন। পাখিকে বিরক্ত করার তো প্রশ্নই ওঠে না। রামডাঙ্গা আর সুন্দরখাতা গ্রামে কেন এত এত পাখি? উত্তর খুঁজতে গিয়ে কেউ কেউ বললেন, হবে না, গ্রাম দুটি যে নদীর পাশে। গ্রামে অনেক গাছগাছালি আর ঝোপজঙ্গল। তা ছাড়া পাখিশিকারির উপদ্রব নেই। গ্রামবাসী পাখিদের বিরক্ত করে না। পাখিরা এখানে নিরাপদ বোধ করে।

পাখিদের জন্য এই গ্রামবাসীর ভালোবাসা সত্যি সত্যি অভাবনীয়। গ্রামবাসীরা জানালেন, তাঁদের নজরদারির কারণে রামডাঙ্গা আর ‍সুন্দরখাতা গ্রামে পাখিশিকারিরা পা মাড়াতে পারে না। গ্রামের অনেকেই দরদ নিয়ে গাছে পাখির বাসা তৈরি করে দেন।

রামডাঙ্গা ও সুন্দরখাতার মানুষ পাখির সঙ্গে মায়া–মমতা আর বন্ধুত্ব রেখেই বসবাস করতে চান। তাঁরা চান, গ্রাম দুটি পাখির অভয়াশ্রম হয়ে উঠুক। পাখির সঙ্গে গড়ে উঠুক মানুষের ভালোবাসা।

দেশের বিশিষ্ট পাখি ও বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ আ ন ম আমিনুর রহমান বলেছিলেন, মানুষের মতো পাখি-প্রাণীর জন্যও অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয়—এই তিনটি মৌলিক বিষয় অপরিহার্য। পাখিদেরও দরকার একটু আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা। পাখিরা মানুষের ভালোবাসা টের পায়। রামডাঙ্গা আর সুন্দরখাতার গ্রামবাসীরা ভালোবেসে পাখিদের এসবের ব্যবস্থা করে দেন। এ কারণেই দশকের পর দশক ধরে পাখিগুলো স্থায়ী আবাস গেড়ে আছে।

শেষ বিকেলে রামডাঙ্গা থেকে ফেরার সময় দেখা গেল, একঝাঁক পাখি দল বেঁধে আকাশে চক্রাকারে ঘুরছে। তাদের কাকলিতে মুখর হয়ে উঠছে গ্রাম। সন্ধ্যার আগে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ফিরে আসছে নীড়ে। এমন দৃশ্য চারপাশকে অপার্থিব করে তোলে।