ঢাকাশুক্রবার , ২৮ জুলাই ২০২৩
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. করোনা ভাইরাস
  7. ক্রিকেট
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. টেনিস
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচনের মাঠ
  14. ফিচার
  15. ফুটবল

মালদ্বীপ ঘিরে ‘মহাসমর’

admin
জুলাই ২৮, ২০২৩ ৭:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মালদ্বীপের আশপাশটা সমুদ্র পরিবহনের গুরুত্ববহ এলাকা। সে কারণে এখানকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে শক্তিধর অনেক দেশের প্রত্যাশার ভার বইতে হচ্ছে। বহির্বিশ্বে অনেকের কাছে জয়-পরাজয়ের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে মালদ্বীপের ভোট।

ভূমি-আয়তন অনুযায়ী বিশ্বের দেশগুলোর তালিকা হলে মালদ্বীপ ২০৯তম হবে। ৩০০ বর্গকিলোমিটারের মতো শুকনো জায়গা আছে তার। কিন্তু ‘ঠান্ডাযুদ্ধে’র কালে এক ইঞ্চি জমিও বড় দেশগুলোর আগ্রহের বাইরে থাকার উপায় নেই।

মালদ্বীপের অবস্থাও তা–ই। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো দেখলে বোঝা যায়, এই নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজধানী মালের চেয়েও বেশি চাপা উত্তেজনা চলছে বেইজিং ও নয়াদিল্লিতে। এমনকি ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দপ্তরেও।

যে নির্বাচনী গণতন্ত্র ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে

বাংলাদেশর মানুষের কাছে মালদ্বীপের পরিচিতি দুই রকমের। বেকারদের কাছে এটা কাজের খোঁজে যাওয়ার দেশ। এক লাখের বেশি বাংলাদেশি আছেন এখানে। আবার অতিধনী বাংলাদেশিদের মালদ্বীপ পছন্দ বেড়ানোর জায়গা হিসেবে। এর সাগর লাগোয়া মনোহর ‘ভিলা’গুলো বিলিয়নিয়ারদের কাছে খুব আকর্ষণীয়। শেষোক্তদের অনেকে জানেন, মালদ্বীপে নির্বাচনের সময় বড় রিসোর্টগুলোতেও ব্যালট বাক্স থাকে। আপাতদৃষ্টিতে যা উন্নত গণতন্ত্রের বার্তা দেয়।

বাস্তবে ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর যে নির্বাচনী সংস্কৃতির শুরু, তা কোনোমতে এখনো ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে মাত্র। মামুন আবদুল গাইয়ুমের তিন দশকের শাসনে (১৯৭৮-২০০৮) নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক বলাৎকার হয়। গত এক যুগে তা আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখর হয়েছে কেবল।

‘গরিবের সুন্দরী বউ’য়ের দিকে নজর

মালদ্বীপে প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা। ফলে আসন্ন নির্বাচনে একজন প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে হবে ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটারকে। ভোটারসংখ্যার হিসাবে মালদ্বীপের নির্বাচনকে বাংলাদেশের একটা সংসদীয় আসনের সমতুল্য ব্যাপার বলা যায়। ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এ রকম ছোট নির্বাচনকে এশিয়ার প্রধান এক উত্তেজক বিষয়ে পরিণত করেছে।

বাংলায় ‘গরিবের সুন্দরী বউ’ বলে যে কথা চালু আছে, মালদ্বীপের অবস্থা সে রকম। চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া মিলে ঠান্ডাযুদ্ধ যত গরম করছে, ভারত মহাসাগরের জল তত ঘোলা হচ্ছে। সেই সূত্রে এই সাগরের মধ্যে থাকা মালদ্বীপের দিকে দূরদূরান্তের মোড়ল-মাতব্বরদেরও দৃষ্টি পড়ছে।

মালদ্বীপের আশপাশটা সমুদ্র পরিবহনের গুরুত্ববহ এলাকা। সে কারণে এখানকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে শক্তিধর অনেক দেশের প্রত্যাশার ভার বইতে হচ্ছে। বহির্বিশ্বে অনেকের কাছে জয়-পরাজয়ের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে মালদ্বীপের ভোট।

এমডিপি ও পিপিএম উভয়ে ঝামেলায়

মালদ্বীপে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। ডাকনাম ইবু। তাঁকে ইবু সলিহও বলা হয়। সেপ্টেম্বরে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হতে চান। ‘এমডিপি’ নামে পরিচিত এই দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রগ্রেসিভ পার্টি অব মালদ্বীপ বা ‘পিপিএম’। পিপিএম থেকে স্বাভাবিকভাবে তাদের নেতা ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুমের প্রার্থী হওয়ার কথা। ইয়ামিন গাইয়ুম হলেন মালদ্বীপের পুরোনো শাসক মামুন আবদুল গাইয়ুমের বয়সে ছোট সৎভাই।

তাঁদের পিতা আবদুল গাইয়ুম ইব্রাহিমের (তাঁর আট স্ত্রী ছিলেন) ২৫ সন্তানের মধ্যে মামুন ছিলেন ১১তম এবং ইয়ামিনের চেয়ে ২০ বছর বড়। প্রভাবশালী পরিবার এরা। মামুন ও ইয়ামিন মিলেই পিপিএমের গোড়াপত্তন করেন। তবে বহু আগে ইয়ামিনের ইচ্ছায় মামুন গাইয়ুমকে পিপিএম ছাড়তে হয়। দুর্নীতির অভিযোগে ইয়ামিনেরও ১১ বছর সাজা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আগে এ রকম মামলা ও রায়ে পিপিএম বিচার বিভাগে সলিহ সরকারের প্রভাব দেখছে।

এই অভিযোগ কতটা সত্য, তা যাচাই সহজ নয়। তবে ইয়ামিনের বিরুদ্ধে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় এখনো উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত হয়নি। ফলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কি না, সেটা অনিশ্চিত। তাঁর প্রার্থিতা অনিশ্চিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে এমডিপি ও সলিহের সুবিধা হওয়ার কথা। কিন্তু মুশকিল হলো সলিহের দলের ভেতর আবার উপদলীয় সংঘাত বেধেছে। এই দলের প্রভাবশালী নেতা মুহাম্মদ নাশিদও প্রেসিডেন্ট হতে চান। তিনি এখন ‘মজলিশ’ নামে পরিচিত পার্লামেন্টের স্পিকার। একসময় তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন এ দেশে। নাশিদের অনুসারীরা কিছুদিন আগে এমডিপি ছেড়ে নতুন দল বানিয়েছেন ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’ নামে। শাসক দলের ১২ জন এমপি এ দলে যোগ দিয়েছেন। নাশিদ ইতিমধ্যে এই দলে যোগ দিয়েছেন।

এমডিপি ভেঙে দুই উপদল হওয়া এবং তা থেকে দুজনের প্রেসিডেন্ট হতে চাওয়া সংগত কারণে বিরোধী দল পিপিএমের জন্য সুখকর। কিন্তু সেই সুখ তারা উপভোগ করতে পারছে না, যেহেতু তাদের প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। ইয়ামিনের দণ্ড তাদের বেকায়দায় ফেলেছে। অথচ ব্যাপক জনসমর্থন আছে এই দলের।