ঢাকাশুক্রবার , ২৮ জুলাই ২০২৩
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. করোনা ভাইরাস
  7. ক্রিকেট
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. টেনিস
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচনের মাঠ
  14. ফিচার
  15. ফুটবল

সেলাই মেশিনে হাসি ফুটল মমতাজ-ফাতেমাদের

admin
জুলাই ২৮, ২০২৩ ৬:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তিনি বলেন, স্বামী মারা গেছেন কয়েক মাস আগে। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সেলাই মেশিন পেয়েছি, এখন সেলাইয়ের কাজ করে যা রোজগার হবে তা দিয়ে সন্তানদের নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারব।

সেলাই মেশিন পেয়ে খুশি চান্দড়া গ্রামের মৃত মোজাম মোল্লার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। তিনি বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিনপাত করছিলাম। একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি, সেলাইয়ের কাজ করে মেয়েদের নিয়ে এখন দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারব।

শুধু মমতাজ বা ফাতেমা বেগম নয়, তাদের মতো অর্ধশতাধিক নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে দাতব্য প্রতিষ্ঠান কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এসব অসহায় নারীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। একই সঙ্গে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন উপকরণ।

এছাড়াও তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতে সুন্দরভাবে বসে ক্লাস করতে পারে সেজন্য ১০ লাখ টাকার বেঞ্চ প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে বুঝে দেয়া হয়।

শুক্রবার (২৮ জুলাই) বিকেলে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অসহায় নারী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দোলন।

কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ও রোটারি কমিউনিটি কর্প অব আলফাডাঙ্গার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, টগরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, কৃষকলীগ নেতা মনিরুজ্জামান লিটন প্রমুখ।

এর আগে দুপুরে দাতব্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে টগরবন্দ ইউনিয়নের টিঠাপানাইল কবরস্থানে তিন শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। বিতরণ কার্যক্রম শেষে গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দোলন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দোলন বলেন, আজকে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে বলে দেশের প্রতিটা এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আর তাই ভবিষ্যতেও শেখ হাসিনার সরকার দরকার। এর কোনো বিকল্প নেই।

আরিফুর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট জাতি গঠনই এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরবর্তী লক্ষ্য। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজ নিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের নানা সুফলের উদাহরণ তুলে ধরে দোলন বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকের বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারনে আজ দেশের সবখানে উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে মানুষ। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। তার নেতৃত্বে আমরা ঠিকই একদিন ইউরোপ আমেরিকার সঙ্গে টেক্কা দিতে পারব, এই স্বপ্ন দেখি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম সুজা, সহ-সভাপতি ইকবাল হাসান চুন্নু, রোটারি ক্লাব অব লুমিনাসের সাবেক সভাপতি কাজী সাইফুল হক, জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন মৃধা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আকরামুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা শেখ শওকত হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য আহসান হাবীব হাসান শিকদার, আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

এর আগে শান্তি সমাবেশ সফল করতে দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন সমাবেশস্থলে। সমাবেশ শেষে রাতে ঢাকা থেকে আগত চ্যানেল আই খুদে গানরাজের তারকা শিল্পীসহ বিভিন্ন শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন। হাজারো মানুষ উপভোগ করেন।